এক দেড় বছর আগে নুরুল হাসান সোহানকে জাতীয় দলে চাই বলে চিল্লাচিল্লি করছিল এদেশের অধিকাংশ ক্রিকেট সাপোর্টার।
এক দেড় বছর আগে নুরুল হাসান সোহানকে জাতীয় দলে চাই বলে চিল্লাচিল্লি করছিল এদেশের অধিকাংশ ক্রিকেট সাপোর্টার।

এক দেড় বছর আগে নুরুল হাসান সোহানকে জাতীয় দলে চাই বলে চিল্লাচিল্লি করছিল এদেশের অধিকাংশ ক্রিকেট সাপোর্টার।
কারণ সোহান তখন ওয়ানডে এবং চারদিনের ম্যাচে রানের ফোয়ারা ফোটাচ্ছিলেন।
সোহান গত ৫ বছরে ৪ টি টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছে, এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এক টেস্টে ৬৮ করলেও আরেক টেস্টে ডাবল ডাক। খেলাটা ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজে এবং সেবার বাংলাদেশ ৪৩ রানে অল আউট হবার লজ্জায় পরে,মানে পুরো দল জঘন্য খেলেছে।
এছাড়া আর দুটো ম্যাচ খেলেছে সে দুটোই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, নিউজিল্যান্ডের মাটিতে, সেখানে, ৪৭,৪১, এবং ৩৬ রানের ইনিংস খেলেছেন।
এগুলো সর্বশেষ সফরে, মুশফিকের ইনজুরিতে সুযোগ মেলে।
আর ওয়ানডে খেলেছেন মোটে তিনটা, যার দুটি নিউজিল্যান্ডের মাটিতে, খেলেন ২৪ ও ৪৪ রানের দুটো ইনিংস আর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপরাজিত ফিনিশিং ৪৫*
এরপর আর ওয়ানডে দলে সুযোগ মেলে নাই।
মিলেছে টি টুয়েন্টিতে, যেখানে সুপার ফ্লপ, কারন সে টি টুয়েন্টিতে তেমন আহামরি নন,কিপিং সব ফরম্যাট ভালো করেন কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটেও টি টুয়েন্টি পারফরম্যান্স বলার মতো নয়। তাকে সুযোগ দেওয়া হলো ঘরোয়া টেস্ট আর ওয়ানডে পারফরম্যান্স দেখে অথচ সুযোগ পেলো টি টুয়েন্টিতে।
আর টি টুয়েন্টি পারফরম্যান্স দেখেই তাকে ওয়ানডে দল থেকে ছেটে ফেলা হলো কি হাস্যকর।
সোহান আবার দলে ফেরার লড়াই করছে, জাতীয় ওয়ানডে লীগকেই বেছে নিয়েছেন তিনি জবাব দেওয়ার জন্য।
সেখানে টানা দুটো ম্যাচ প্রায় একা হাতে জিতিয়েছেন, দুটো ম্যাচেই কায়েস, মুশফিকরা থাকতেও ৮০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে খাদে পড়েছিলো দল, এক ম্যাচে ১৩২ রানের ইনিংস আরেক ম্যাচে খেলেন অপরাজিত ৮১ রানের ইনিংস। দুটোতেই ম্যাচ সেরা হন তিনি মুশফিক, ইমরুলকে ছাপিয়ে আর তার দল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব এই দুই জয়ে চ্যাম্পিয়ন হবার দোরগোড়ায়।
এবং মজার ব্যাপার এই দলের অধিনায়ক ইমরুল কায়েস এবং মুশফিকের ফ্যানেরা ইতিমধ্যে তাদের বসেরা শিরোপা জিতেছে বলে পোস্ট করছে। সেখানে সোহানের নাম নেওয়ার কোন প্রয়োজন নাই।
ইমরুলরা অবহেলিত আর সোহানরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সুযোগ পায় এটাই তো?
দেশের বাইরে টেস্টে ৩১ গড়ে রান করেও সোহানরা কিপিং কোটায় খেলার অপবাদ পায়।
মাত্র ৩ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে ৫৬ গড়ে ফিনিশিং রোলে খেলেও সে দলের বাইরে যায়,তবুও লোকজনের চোখে পড়ে না, কারণ সে কিপিং কোটায় খেলে। তাকে অবহেলিত বলা যায় না, অবহেলিত তো শুধু ইমরুল কায়েসদের উপাধি।
শেখ জামালকে শিরোপা জেতাতে অবদান রাখায় নুরুল হাসান সোহানকে অভিনন্দন।
বিঃ দ্রঃ, গালাগালি করা গ্রুপ রুলস বিরোধী।

No comments